ইরান ইস্যুতে নতুন মোড়: হামলার ফলেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা—বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
Share
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘বোর্ড অব পিসে’র উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump পুনরায় দাবি করেছেন, গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলাই গাজায় যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করেছিল। তার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাত, তবে ইরানের “হুমকি” আঞ্চলিক দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হতে বাধা দিত। তার ভাষায়, “এখন আমাদের হয়তো আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
এই মন্তব্যটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনার কয়েকদিন পর। গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানান, জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ ‘ভালো অগ্রগতি’ করেছে। তার দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির মূল নীতিগুলোর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে দুটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান সেখানে মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চায় না। তেহরান জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং তা কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে সমর্থন করবে না।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে চায়। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তাদের প্রতিরক্ষা নীতির অংশ এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরও জানান, তার কূটনৈতিক সহকারী স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে “খুব ভালো বৈঠক” করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হবে।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১০ দিনই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে যাবে—কূটনৈতিক সমঝোতা, নাকি নতুন করে উত্তেজনা। বিশ্ব রাজনীতির এই স্পর্শকাতর মুহূর্তে নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকেই।
