জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা—ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন পরামর্শ
Share
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর—ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO)।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হালনাগাদ করা ভ্রমণ সতর্কতায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এফসিডিওর সতর্কতায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্থিরতা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল এবং ভোটকেন্দ্রগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে হঠাৎ হামলা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বড় ধরনের জনসমাগম, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি এমন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ভ্রমণকারীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, নিরাপদ চলাচলের পরিকল্পনা করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনা (contingency plan) প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতেও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল। সর্বশেষ হালনাগাদ সতর্কতায় সেই নির্দেশনাকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সতর্কতা সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। ফলে এ ধরনের সতর্কতা বিদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়মিতভাবে এফসিডিওর অফিসিয়াল ভ্রমণ পরামর্শ পর্যবেক্ষণ করার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
