মাস্কের বড় চাল! এক্সএআই এখন স্পেসএক্সের মালিকানায়—মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের পথে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

Share মাস্কের বড় চাল! এক্সএআই এখন স্পেসএক্সের মালিকানায়—মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের পথে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ ‘এক্সএআই’কে কিনে নিয়েছে তারই মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন তোলা এই সিদ্ধান্তকে মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ও এআইভিত্তিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছে, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একীভূত করার মাধ্যমে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়া ও মঙ্গলে মানব সভ্যতা বিস্তারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগোলেন মাস্ক

এক বিবৃতিতে মাস্ক বলেন,
🔴 “এআই, রকেট, স্টারলিংক, সরাসরি মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রিয়েল-টাইম তথ্য ও মুক্ত বাক-স্বাধীনতার প্ল্যাটফর্ম—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করবে।”
তার মতে, পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের জন্য এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উদ্ভাবনী শক্তি।

চুক্তি সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই লেনদেনে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার, আর এক্সএআইয়ের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলার। অধিগ্রহণের অংশ হিসেবে এক্সএআইয়ের বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে স্পেসএক্সের ০.১৪৩৩টি শেয়ার পাবেন। এছাড়া এক্সএআইয়ের কিছু নির্বাহী কর্মকর্তা চাইলে শেয়ারপ্রতি ৭৫ দশমিক ৪৬ ডলার নগদ নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন।

বর্তমানে এক্সএআই মূলত একটি বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা চ্যাটবটের জন্য পরিচিত। ফলে অনেকের কাছেই একটি রকেট কোম্পানির সঙ্গে এআই প্রতিষ্ঠানের এই একীভূতকরণ প্রথমে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাস্কের ‘মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার’ গড়ার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে স্পেসএক্স

মাস্কের ভাষায়,
🟢 “এআইয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের যে বিপুল চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তা শুধু পৃথিবীর সম্পদ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।”
এই কারণেই তার মতে, এই বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা মহাকাশে সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক সমাধান

এই লক্ষ্যেই সম্প্রতি স্পেসএক্স ১০ লাখ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ তৈরির অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের (এফসিসি) কাছে আবেদন করেছে

মাস্ক আরও দাবি করেন, মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণ প্রযুক্তির উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। তার ভাষায়,

“এই সক্ষমতা আমাদের চাঁদে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘাঁটি তৈরি, মঙ্গলে পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা গড়ে তোলা এবং শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পথ খুলে দেবে।”

মঙ্গলে মানব বসতি গড়ার এমন দাবি মাস্কের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যেই স্পেসএক্স মঙ্গলে মানুষ পাঠাবে—যা বাস্তবে এখনো সম্পন্ন হয়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিজের এক কোম্পানিকে আরেকটি কোম্পানির মাধ্যমে অধিগ্রহণ করার ঘটনা মাস্কের ক্ষেত্রে নতুন নয়। গত বছর তিনি এক্সএআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) একীভূত করেন। এর আগে ২০২২ সালে টুইটার কেনার পর সেটিও কার্যত তার বৃহৎ প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে যায়।

এ ছাড়া সম্প্রতি ঘোষণা এসেছে, টেসলা এক্সএআইয়ে ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ জানিয়েছে—এ বছরের শেষদিকে শেয়ারবাজারে আসার পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স, যা বাস্তবায়িত হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে

বিশ্লেষকদের মতে, এআই ও মহাকাশ প্রযুক্তিকে এক ছাতার নিচে আনার মাধ্যমে ইলন মাস্ক ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নেতৃত্বে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করলেন—যার প্রভাব শুধু পৃথিবীতেই নয়, ছড়িয়ে পড়তে পারে মহাকাশেও।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo