ইফতার মাহফিলে তারেক–আব্বাসদের সঙ্গে পাটওয়ারীর কথোপকথন, ‘দুষ্টুমি করবা না’ মন্তব্যে আলোচনা
Share
জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।
পাটওয়ারী লেখেন, জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময়ের চেষ্টা করেছেন। এ সময় বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলাপ হয় বলে জানান তিনি।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাছে দোয়া চাওয়ার কথা। জবাবে আমির তাকে ‘দোয়া ও দাওয়াহ’ দুটিই রইল বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গেও তার কথা হয় বলে জানান পাটওয়ারী। তিনি রসিকতার ছলে বলেন, “বাসার বুয়া প্রতিদিন ফ্যামিলি কার্ড চায়—এটা নির্বাচনে জেতার ভালো কৌশল ছিল।” জবাবে তারেক রহমান নাকি বলেন, এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই তা সারাদেশে চালু হবে।
এনসিপির এই নেতা আরও জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান–এর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি বাসায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন–এর কাছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্নের অনুরোধ জানান পাটওয়ারী। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সময় লাগতে পারে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস–এর সঙ্গেও তার কথোপকথন হয়। পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদায় নেওয়ার সময় আব্বাস তাকে ‘দুষ্টুমি না করতে’ বলেন। উত্তরে তিনি মজার ছলে মন্তব্য করেন, “ছোট ভাইয়ের সিট এভাবে কেড়ে না নিয়ে ছেড়ে দিলেও পারতেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইফতার মাহফিলের মতো সামাজিক-ধর্মীয় আয়োজনে বিভিন্ন দলের নেতাদের অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা রাজনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। প্রকাশ্যে শেয়ার করা এমন কথোপকথন রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে এবং তা নিয়ে জনমনে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এসব মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহল বলছে, নির্বাচন-পূর্ব প্রেক্ষাপটে দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, কৌশল ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে।
ইফতার মাহফিলের এই অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষই পোস্টটি নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
