পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে—এমন গুজবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই: নাসা
Share
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, পৃথিবী নাকি খুব শিগগিরই তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাতে যাচ্ছে। এই দাবির পেছনে ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ ও মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে নাসা ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।
নাসার এক মুখপাত্র বলেন, মাধ্যাকর্ষণ কোনো সুইচ নয় যে ইচ্ছেমতো বন্ধ করে দেওয়া যাবে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নির্ভর করে এর মোট ভরের ওপর। পৃথিবীর কেন্দ্র, ম্যান্টল, ভূত্বক, মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল—সব মিলিয়ে এই ভর গঠিত। যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবী তার এই ভর হারাচ্ছে না, ততক্ষণ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই।
গুজবের শুরু যেভাবে
এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের সূচনা হয় এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে। ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে গুগলের কর্মী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও অপরাধবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন—দুটি ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে প্রভাবিত করবে। পরে এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞানীরা কী বলছেন
যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির ব্ল্যাক হোল বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম অলস্টন বলেন, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বাস্তব হলেও সেগুলোর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষুদ্র। তাঁর ভাষায়, এই তরঙ্গ আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে গেলেও আমরা তা অনুভব করি না। এগুলো বড়জোর একটি পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র মাত্রায় সংকোচন-প্রসারণ ঘটাতে পারে। এত সামান্য প্রভাব দিয়ে পৃথিবীর মতো বিশাল গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কেড়ে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব।
সূর্যগ্রহণ নিয়েও ভ্রান্ত ধারণা
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় এলেও এতে পৃথিবীর মোট মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ওপর কোনো অস্বাভাবিক প্রভাব পড়ে না। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল জোয়ার-ভাটার শক্তির ওপর সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে, এর বেশি কিছু নয়।
ভয় নয়, বিজ্ঞানই ভরসা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখা জরুরি। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার কোনো বাস্তব ঝুঁকি নেই
