অস্ট্রেলিয়ায় এক মাসে ৫০ লাখ কিশোর-কিশোরীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ | ডিজিটাল নিরাপত্তা উদ্যোগ
Share
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও শিশু-কিশোরদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৫০ লাখ কিশোর-কিশোরীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের ফলেই এই ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বয়স যাচাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে। অনেক কিশোর-কিশোরী ভুয়া তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল, যা নীতিমালা লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। এসব অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হয়। বিশেষ করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এই অভিযান বেশি চালানো হয়েছে।
সরকারের মতে, শিশু ও কিশোরদের অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমাতেই এই উদ্যোগ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়ছে। এসব ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক অভিভাবক সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, কিছু মানবাধিকার ও ডিজিটাল অধিকারকর্মী মনে করছেন, হঠাৎ করে এত বড় পরিসরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করায় অনেক কিশোরের সামাজিক যোগাযোগ ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তারা বয়স যাচাই প্রযুক্তি আরও উন্নত করার কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ কমে আসে। ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ টুল এবং নিরাপদ কনটেন্ট ফিল্টার চালু করার কথাও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাই সমাধান নয়। কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণ শেখানো equally গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
