ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড হুমকি, জার্মানি কি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে?
Share
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রাসী ইচ্ছা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতেরও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা এবং এর বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি জার্মানিসহ ইউরোপীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু জার্মান রাজনীতিক প্রশ্ন তুলেছেন, এই পরিস্থিতিতে তারা কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
তবে জার্মানি সরকার স্পষ্ট করেছে, বিশ্বকাপ অংশ নেওয়া বা বয়কটের সিদ্ধান্ত রাজনীতিকদের নয়, বরং জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) ও ফিফার এখতিয়ার। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত ক্রীড়া সংস্থাগুলোই নেবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারত্বের অবসান ঘটতে পারে।”
শাসক জোটের শরিক দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)-এর নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত। তবে জার্মান ক্রীড়াবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ানে শেন্ডারলাইন বলেন, বড় ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া বা বয়কটের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ক্রীড়া সংস্থার এখতিয়ার।
জনমত জরিপ সংস্থা ইনসার-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তবে ৪৭% জার্মান নাগরিক বয়কটের পক্ষে, আর ৩৫% বিপক্ষে। জার্মানি চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে এবং ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে।
এদিকে ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের বিপক্ষে। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা বলেছেন, “বর্তমানে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই প্রতিযোগিতাটি বয়কট করার।”
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ ফিফা শান্তি পুরস্কার। তবে ইউরোপীয় ফুটবল নেতারা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।
বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রাথমিক সতর্কতা ও পরিকল্পনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ফুটবল ফেডারেশন সম্ভবত সরকারের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, তবে কেউ কেউ আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে।
