২৪ ঘণ্টায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরলেন শোয়েব আখতার! নাকভি ইস্যুতে চমকপ্রদ ব্যাখ্যা
Share
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং তার জেরে তীব্র সমালোচনা—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গন। এই প্রেক্ষাপটে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের বক্তব্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলেন সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার।
ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে কি খেলবে না—এমন আলোচনা চলার পর শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে পাকিস্তান। তবে ম্যাচে ভরাডুবির পর দলকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ব্যাটিং লাইনআপে থাকা বাবর আজমদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের তালিকায় ছিলেন শোয়েবও।
একটি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি-এর দিকে। বক্তব্যে তিনি ‘অযোগ্য’ ও ‘জাহিল’ শব্দ ব্যবহার করে নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তার মন্তব্যে বোঝা যায়, বর্তমান বোর্ড কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পাকিস্তান ক্রিকেটকে সঠিক পথে নিতে পারছে না।
তবে এ বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সুর পাল্টান ৫০ বছর বয়সী এই সাবেক পেসার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ‘অযোগ্য’ ও ‘জাহিল’ শব্দ দুটি ব্যক্তিগতভাবে মহসিন নাকভি ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। দেখে মনে হতে পারে, আমি তাঁকে বলেছি, কিন্তু আমার বক্তব্য ছিল বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে।”
শোয়েবের দাবি, তার মন্তব্যকে আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অযোগ্য নেতৃত্ব যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এই সাধারণ বক্তব্যই তিনি দিতে চেয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, নাকভি একজন ভালো মানুষ এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি চান, তবে সঠিক পরামর্শের অভাব রয়েছে।
তবে সব অভিযোগ থেকে পুরোপুরি সরে যাননি শোয়েব। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের প্রাথমিক অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অসন্তোষ রয়েছে তার। তার ভাষ্য, “একটি অবস্থান নেওয়ার পর সেটিতে অটল থাকা উচিত ছিল। পুরো কমিউনিটি পাশে ছিল। ইউ-টার্ন নেওয়ার আগে আলোচনা করা যেত।”
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বড় ম্যাচে পরাজয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এমন মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয় এবং তা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
পাকিস্তানের মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের আলোচনাই এখন বেশি আলোচিত। শোয়েব আখতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, পারফরম্যান্স ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় পাকিস্তান ক্রিকেট কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
