দেশে শাবানের চাঁদ দেখা যায়নি, বুধবার শুরু হচ্ছে শাবান; ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শবে বরাত
Share
দেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ইসলামি বর্ষপঞ্জির হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে এবং আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে শাবান মাস। এর মধ্য দিয়ে রমজান মাসের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েও প্রবেশ করছে মুসলিম সমাজ।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের নতুন চাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর ফলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বুধবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। শবে বরাত উপলক্ষে পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) পালিত হয় পবিত্র শবে বরাত। এই রাতকে মুসলমানরা ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের রাত হিসেবে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে থাকেন। শবে বরাতের মাধ্যমে রমজান মাসের আগমনের বার্তাও সূচিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রমজান ও শাবান মাস ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)। সে ক্ষেত্রে দেশটিতে ১৯ মার্চ রমজান মাসের শেষ দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে ইতোমধ্যে শাবান মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী দেশটিতে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকেই শাবান মাস শুরু হচ্ছে। চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী ২৯ অথবা ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর সেখানে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রমজান শুরুর তারিখে এক থেকে দুই দিনের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার সময়ের ভিন্নতার কারণে প্রতিটি দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাস গণনা করে থাকে।
শাবান মাসকে মুসলমানরা রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সময়ে বেশি বেশি নফল ইবাদত, রোজা, কোরআন তেলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলেমদের মতে, শাবান মাসে আত্মসংযম ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে তা আরও সুসংহতভাবে পালন করা সহজ হয়।
চাঁদ দেখা সংক্রান্ত আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখন শবে বরাত ও রমজানকে সামনে রেখে তাদের ধর্মীয় প্রস্তুতি নতুনভাবে সাজাতে শুরু করেছেন।
