শিশু মিজানুর রহমানের ৭ বছরে হাফেজ কোরআন: ৩০ পারা মুখস্থের অনন্য সাফল্য
Share
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৭ বছর বয়সী শিশু মিজানুর রহমান মাত্র ৮ মাস ১৫ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে চমক সৃষ্টি করেছেন। এ অভূতপূর্ব সাফল্য কেবল তার পরিবার ও শিক্ষকদেরই নয়, স্থানীয় সমাজকেও আনন্দে ভাসিয়ে দিয়েছে।
মিজানুর রহমান শহরের শায়েস্তানগর এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে। সে শহরস্থ তাহসিনুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা থেকে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। কোরআন মুখস্থের পুরো শিক্ষা, শুরু থেকে শেষ—কায়দা শিক্ষা থেকে ৩০ পারা মুখস্থ করা—তারই মাদ্রাসা থেকে নেওয়া।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ কারী মাহমুদ আল হাসান বলেন, “মিজানুর রহমান অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। মাত্র ৮ মাস ১৫ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করা তার জন্যই নয়, আমাদের মাদ্রাসার জন্যও গর্বের বিষয়। আমরা সর্বদা মেধাবী ছাত্রদের সহায়তায় সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেষ্টা করি।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, শিশু মিজানুরের এই অনন্য অর্জন স্মরণীয় করতে এবং তাকে উৎসাহিত করতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সমাজ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হবে।
শিশু মিজানুর রহমানের সাফল্য শুধু তারই নয়, এটি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রেরণার উৎস। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের এই ধরনের মেধা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করা এবং উৎসাহিত করা প্রয়োজন। কারণ এর ফলে তারা কেবল ধর্মীয় শিক্ষায় দক্ষ হবে না, বরং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে ধৈর্য ও একাগ্রতা বিকাশ করতে পারবে।
এছাড়া, স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষাবিদরা এই সাফল্যকে শিশু শিক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, “যদি শিশুদের জন্য সঠিক পরিবেশ ও নিয়মিত গাইডলাইন থাকে, তাহলে তারা খুব ছোট বয়সেই অসাধারণ অর্জন করতে পারে।”
মিজানুর রহমানের পরিবারও তার এই সাফল্যে গর্বিত। তার বাবা জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা আনন্দিত, সন্তানের কঠোর অধ্যবসায় ও শিক্ষকদ্বয়ের তত্ত্বাবধানে এত বড় সাফল্য অর্জিত হলো। আশা করি, মিজানুর আগামী দিনগুলোতে আরও বড় অর্জন করবে।”
শিশু হাফেজ মিজানুরের এই কৃতিত্ব স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই তাকে “হবিগঞ্জের গর্ব” হিসেবে অভিহিত করছেন।
এ ধরনের কৃতিত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যদি শিশুদের জন্য শৃঙ্খলা, উৎসাহ ও সঠিক পথনির্দেশনা থাকে, তবে তাদের সীমাহীন সম্ভাবনা রয়েছে। মিজানুর রহমানের সাফল্য সেই সত্যকে আরও শক্তভাবে প্রমাণ করছে।
