খাদিজা (রা.): নবীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য সাথী ও ইসলামের অনন্য নারী
Share
ইসলামের ইতিহাসে হজরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) এমন এক নাম, যিনি শুধু নবীজির স্ত্রী ছিলেন না; বরং ভালোবাসা, আস্থা, সহযোগিতা ও ইমানের দৃঢ়তার এক অনন্য প্রতীক। নবীজির জীবনে খাদিজা (রা.) ছিলেন প্রথম স্ত্রী, প্রথম বিশ্বাসী এবং সর্বাধিক নির্ভরতার আশ্রয়। নবীজির হৃদয়ে তাঁর স্থান এমন গভীর ছিল যে, খাদিজার জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো বিয়ে করেননি।
সামাজিক বাস্তবতায় বহুবিবাহ তখন স্বাভাবিক হলেও, খাদিজার উপস্থিতিতে নবীজির হৃদয় অন্য কারও প্রতি ঝুঁকেছিল না। হজরত আয়েশা (রা.) স্বীকার করেছেন, নবীজির অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি তাঁর এমন ঈর্ষা ছিল না, যেমনটা খাদিজার প্রতি ছিল। কারণ নবীজির মুখে বারবার খাদিজার প্রশংসা শোনা যেত—যেমন মনে হতো, তিনি আজও জীবন্তভাবে তাঁদের জীবনে উপস্থিত।
খাদিজার মৃত্যুর পরও নবীজির হৃদয়ে তিনি ছিলেন জীবন্ত। রাসুল (সা.) তাঁর বান্ধবীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন; খাদিজার বান্ধবীদের জন্য খাবার পাঠানো থেকে শুরু করে উপহার দেওয়া—সবকিছুই খাদিজার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে করা হতো। খাদিজার বোন হালা বিনতে খুওয়াইলিদের দেখা করলে নবীজি মুহূর্তেই আবেগাপ্লুত হয়ে যেতেন, যেন খাদিজা ফিরে এসেছেন। এই আবেগের একমাত্র কারণ—খাদিজা (রা.) নবীজির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন।
খাদিজা (রা.) নবুয়ত প্রাপ্ত নবীর প্রথম নির্দ্বিধায় বিশ্বাসী। ওহি প্রকাশের সময় নবীজি যখন অস্থির ছিলেন, খাদিজা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। শিয়াবে আবি তালিবের কঠিন অবরোধের সময় তাঁর সম্পদ ও খাদ্য মুসলমানদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার মতো ত্যাগ ও সাহসিকতা খাদিজাকে ইসলামের ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে। নবীজির সন্তানদের অধিকাংশ—সন্তানদের মা ছিলেন খাদিজা (রা.), এবং খাদিজার পরিবারই ইসলামের প্রথম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানেই প্রথম নামাজ কায়েম হয় এবং কোরআনের শিক্ষা শুরু হয়।
হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন নবীজির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত ও ধৈর্যশীলা। কখনো অবাধ্য হননি বা সম্পর্কের অবমাননা করেননি। এই নিখাদ আনুগত্য ও ভালোবাসা নবীজির কাছে তাঁকে সর্বাধিক প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর জীবন ও ত্যাগ নবীজির মিশনকে শক্তি যুগিয়েছে এবং ইসলামের ইতিহাসে তিনি একজন অবিস্মরণীয় নারী হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
