স্ট্রেস বাড়লেই কেন মিষ্টি বা জাংক ফুডের লোভ? ক্ষুধার ওপর মানসিক চাপের ভয়ংকর প্রভাব

Share স্ট্রেস বাড়লেই কেন মিষ্টি বা জাংক ফুডের লোভ? ক্ষুধার ওপর মানসিক চাপের ভয়ংকর প্রভাব

মানসিক চাপ (Stress) শুধু মনেই নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলে শরীর ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর। মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত—এসবের পাশাপাশি স্ট্রেস আমাদের খাওয়ার ইচ্ছা ও রুচিকেও বদলে দিতে পারে। কখনো অকারণে চকোলেট, পিৎজা বা মিষ্টি খেতে মন চায়, আবার কখনো খাবারের প্রতিই আগ্রহ হারিয়ে যায়।

👉 কেন এমন হয়? আর কীভাবেই বা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেস হলো এমন এক মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা কোনো কঠিন বা নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতে শরীর নিজেকে রক্ষা করতে সক্রিয় করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্ট্রেস সেন্টার-এর পরিচালক প্রফেসর রাজিতা সিন্হা বলেন,

“যখন মনে হয় পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন শরীর ও মন যে প্রতিক্রিয়া দেখায়— সেটাই স্ট্রেস।”

এই সময় মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইপোথ্যালামাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যার ফলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।

🔹 স্বল্পমেয়াদে স্ট্রেস কখনো উপকারীও হতে পারে, যেমন— বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা।
🔹 কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক স্ট্রেস ডেকে আনতে পারে ডিপ্রেশন, অনিদ্রা, ওজন বৃদ্ধি এমনকি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।

স্ট্রেস কেন ক্ষুধাকে প্রভাবিত করে?

নিউরো-অপথালমোলজিস্ট ডা. মিঠু স্টোরোনি জানান, মস্তিষ্ক ও পাচনতন্ত্রের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। স্ট্রেসের সময় ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, ফলে পেট ভরা আছে কি না— সেই সংকেত ঠিকভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায় না।

👉 এর ফলেই—

  • কারও ক্ষেত্রে ক্ষুধা একেবারে কমে যায়

  • আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ মিষ্টি বা উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবারের তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেসের সময় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তি পেতে চায়, আর সেই চাহিদা পূরণে মানুষ অজান্তেই চিনি বা জাংক ফুডের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ক্রনিক স্ট্রেস কেন আরও বিপজ্জনক?

দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। এতে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, যা ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়

প্রফেসর সিন্হা একে বলেছেন—

“ফিড-ফরোয়ার্ড সাইকেল”,
যেখানে স্ট্রেস ও অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস একে অন্যকে আরও উসকে দেয়।

স্ট্রেস ইটিং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুম হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে রিসেট করে
নিয়মিত শরীরচর্চা: স্ট্রেস কমায় ও মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে
আগাম পরিকল্পনা: ব্যস্ত সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত রাখা
জাংক ফুড এড়িয়ে চলা: বাড়িতে মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি থাকা কমানো

👉 খাওয়ার তালিকায় রাখুন:
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (মাছ, ডাল, মাংস), ওটস, মসুর ডাল
👉 এড়িয়ে চলুন:
পিৎজা, মিষ্টি স্ন্যাকস, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট

এছাড়া, স্ট্রেসের সময় অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে দূরে থাকা এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া—দুটোই কমাতে সাহায্য করে।

🔔 বিশেষজ্ঞদের মত:
খাবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার সময় এসেছে। স্ট্রেস ও খাদ্যাভ্যাসের এই জটিল সম্পর্ক বুঝতে পারলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo