ফ্যাটি লিভার: ঝুঁকি, সতর্কতা ও লিভার ক্যানসার থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
Share
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি পরিচিত মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিস নামে। ফ্যাটি লিভার মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, রেড মিট বা চিজের অতিরিক্ত ব্যবহার, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ—সবকিছুই লিভারের উপর চাপ ফেলে এবং ধীরে ধীরে চর্বি জমতে শুরু করে।
কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে সেই অঙ্গে প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ফ্যাটি লিভার অবহেলায় থাকলে এটি নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিস (NASH)-এ পরিণত হতে পারে। NASH কেবল লিভারের ক্ষতি নয়, বরং ভবিষ্যতে লিভার সিরোসিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”
ডা. গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, ফ্যাটি লিভারকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে চলা নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, “১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জনের ফ্যাটি লিভার সিরোসিসে রূপ নিতে পারে। এবং সিরোসিসে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২০-৩০ শতাংশের লিভারে পরবর্তীকালে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ মদপান বা হেপাটাইটিস সংক্রমণ না থাকলেও ফ্যাটি লিভার নিজেই বিপজ্জনক।”
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমানোর উপায়
ডা. গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ।
-
ডায়েট সচেতনতা: অতিরিক্ত তেল, মাখন, চিজ ও রেড মিট কম খাওয়া।
-
নিয়মিত ব্যায়াম: দৈনন্দিন হাঁটা, যোগ বা হালকা ব্যায়াম লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
-
রক্তচাপ ও শর্করার নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
-
নিয়মিত লিভারের পরীক্ষা: আল্ট্রাসাউন্ড বা রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের স্বাস্থ্য যাচাই করা।
ডা. গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, “ফ্যাটি লিভারকে অবহেলা করলে রোগ ধীরে ধীরে সিরোসিসে রূপ নেয়। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ক্ষুদ্র পরিবর্তনই বড় ধরনের সুরক্ষা দিতে পারে।”
ফ্যাটি লিভার কেবল একটি হালকা সমস্যার নাম নয়; এটি আমাদের লিভারের স্বাস্থ্য, জীবনের মান এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। তাই সচেতন থাকা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গঠন এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
সতর্কতা এবং সচেতনতা—এটি ফ্যাটি লিভারের বিরুদ্ধে প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ।
