ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৫ জন হাসপাতালে, ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যু নেই
Share
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। তবে এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক আক্রান্ত রোগীর বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)—মোট ১২ জন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন।
অন্যদিকে বিভাগভিত্তিক হিসাবে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, খুলনা বিভাগে একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ পুরোপুরি কমেনি।
স্বস্তির আরেকটি দিক হলো, একই সময়ে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৯০০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে আগের বছরের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল। ওই সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪১৩ জন, যা দেশের জন্য ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানির উৎস ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য বিভাগও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ আকার ধারণ না করে।
