বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: গর্ভকালীন নারীর ঝুঁকি এবং প্রতিরোধ

Share বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: গর্ভকালীন নারীর ঝুঁকি এবং প্রতিরোধ

বর্তমান সময়ে দেশ-বিদেশের গ্রাম এবং শহর এলাকায় সমান হারে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগী। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৫৪ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, আর ২০৪৫ সালে এই সংখ্যা ৭৮ কোটিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২০২১ সালে ডায়াবেটিসের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ পরবর্তীকালে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। গত দুই বছরে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা ও ইনসুলিন নেওয়ার পরও ৮০ শতাংশের বেশি রোগী কন্ট্রোলের বাইরে রয়েছেন।

বিএমইউ-এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম জানিয়েছেন, দেশে মোট জনসংখ্যার ১০.৮ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ।

ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ডায়াবেটিস শুধুই গ্লুকোজের সমস্যা নয়; এটি হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর ৮০ শতাংশ মৃত্যু ঘটে, ৪০–৪৫ শতাংশের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হয়। এছাড়া রোগীর ২৯ শতাংশ রেটিনোপ্যাথিতে ভুগছেন। প্রজনন ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে।

বারডেম একাডেমির সাবেক পরিচালক ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুখ পাঠান বলেছেন, ডায়াবেটিস সারাজীবনের রোগ, যা কখনো নির্মূল হয় না। পরিবারে বা বংশে যদি কারও ডায়াবেটিস থাকে, এবং যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম না করা হয়, ওজন বাড়ে, তবে অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়েন। মাতৃগর্ভেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ গর্ভবতী নারীর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক, অর্থাৎ প্রতি ছয়জন গর্ভবতীর মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের নজির

কয়েকটি উদাহরণ দেখায়, প্রেগন্যান্সির মাত্র তিন–চার মাসে ডায়াবেটিস ধরা পড়তে পারে। সঠিক চিকিৎসা ও ইনসুলিন ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব। তবে, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা না করা বা দেরি করলে মা ও শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রেগন্যান্সি ও ডায়াবেটিস নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করে। এতে বলা হয়, সন্তান জন্মের ছয় সপ্তাহ পরও ৫০ শতাংশ গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিক হয়নি।

গাইনোকোলজিস্ট ডা. মনোয়ারা বেগম বলেন, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে রোগীকে ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও প্রয়োজনে ইনসুলিন ব্যবহার অত্যাবশ্যক। ডা. নাসরিন আরও জানিয়েছেন, এই রোগে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন অপরিহার্য।

সতর্কতা ও সচেতনতা

গর্ভকালীন বা সাধারণ ডায়াবেটিস রোগী নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখলে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তবে দেশের এই রোগের দ্রুত বৃদ্ধি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo