অল্প বয়সে চুল পাকা? জানুন কারণ ও প্রতিরোধের সহজ উপায়
Share
অল্প বয়সে চুল পাকা দেখা দিলে তা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রি-ম্যাচিওর গ্রেয়িং’। চুলের রঙ নির্ধারণ করে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ। চুলের গোড়ায় যখন মেলানিন উৎপাদন কমে যায়, তখনই চুল ধীরে ধীরে সাদা হতে শুরু করে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. বংশগত বা জেনেটিক্স
সবচেয়ে বড় কারণ হলো বংশগত। যদি বাবা-মায়ের চুল অল্প বয়সে পেকে থাকে, তবে সন্তানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি।
২. মানসিক চাপ
অতিরিক্ত স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা শরীরের স্টেম সেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে চুলের রঞ্জক উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং চুল সময়ের আগেই সাদা হতে পারে।
৩. পুষ্টির অভাব
শরীরে ভিটামিন বি-১২, আয়রন, কপার ও ভিটামিন ডি-৩ এর ঘাটতি থাকলে চুল অকালেই পেকে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা সুষম আহার করেন না, তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
৪. দূষণ ও রাসায়নিকের ব্যবহার
বায়ুদূষণ, কড়া কেমিক্যাল, হিট ও সস্তা চুলের রঙ ব্যবহারের কারণে চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অল্প বয়সে চুল পাকানো প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায়
যদি বংশগত কারণে না হয়, তবে সঠিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে চুল পাকা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১. আমলকীর ম্যাজিক
আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত আমলকীর রস খাওয়া বা চুলে আমলকীর তেল মাখলে মেলানিন উৎপাদন বজায় থাকে।
২. কারি পাতার ব্যবহার
নারকেল তেলের সাথে কারি পাতা ফুটিয়ে সেই তেল চুলে ব্যবহার করুন। কারি পাতায় থাকা ভিটামিন বি চুলের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখতে সহায়তা করে।
৩. পুষ্টিকর খাবার
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সবুজ শাকসবজি ও বাদাম। এগুলো চুলের প্রয়োজনীয় খনিজ ও প্রোটিন সরবরাহ করে।
৪. পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রসে থাকা ‘ক্যাটালেস’ নামক এনজাইম চুলের গোড়াকে মজবুত করে এবং অকাল সাদা হওয়া রোধ করে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও যোগব্যায়াম
দৈনিক ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ও নিয়মিত যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে শরীর ও চুলের কোষ সজীব থাকে।
চুল পাকা বা সাদা হওয়া অল্প বয়সে স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু সচেতন জীবনযাত্রা, সুষম খাদ্য ও ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমে এটি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ফিরে আসলেই চুলের স্বাস্থ্য ও রঙ দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।
