তাহসান–রোজা বিচ্ছেদ: এক বছরের বিয়ের পর আলাদা পথের সিদ্ধান্ত

Share তাহসান–রোজা বিচ্ছেদ: এক বছরের বিয়ের পর আলাদা পথের সিদ্ধান্ত

জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান এক বছরের বিয়ের পর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেন। ঠিক এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদ-এর সঙ্গে তার বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিং হয়েছিল। তবে শনিবার  তাহসান নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের সম্পর্ক আর চলমান নেই।

বিচ্ছেদের খবরের পর ভক্ত এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তুমুল প্রেম ও উজ্জ্বল বিয়ের পর এত দ্রুত সম্পর্কের সমাপ্তি কীভাবে হলো। ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময়টি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

তাহসান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত সফরের আগে তিনি ও রোজা আলাদা থাকছিলেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গান থেকে বিরতি নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও রোজা তখনও মাঝে মাঝে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করতেন, ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের পর জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান আগের চেয়ে ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবন চাইতেন, তাই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা তার সিদ্ধান্তের অংশ ছিল। অন্যদিকে, রোজা নতুন সামাজিক পরিসর উপভোগ করছিলেন। এই ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনধারা ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিল।

সূত্ররা জানাচ্ছে, শুরুতে তারা দূরত্ব কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া গত বছরের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়েছে।

তাহসানের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি বরাবরই সংযত। ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, বিচ্ছেদ হলেও এটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই।

বিনোদন অঙ্গনের এই খবরে ভক্তরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, তবে সবাই মানছেন যে, জীবনের বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবশ্যম্ভাবী হতে পারে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo