প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু: বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি

Share প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু: বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও সফল নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর বুধবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী, চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী

ডলি চৌধুরী একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেন, “জীবিত অবস্থায় যদি তাঁর মূল্যায়ন না করা হয়, যদি কর্মস্থল থেকে সম্মান না দেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুর পর এসব স্বীকৃতি কী কাজে আসে? জাভেদ যা করেছেন, তার বিনিময়ে আমি আর কোনো স্বীকৃতি চাই না।” তিনি আরও জানিয়েছেন, জীবিত অবস্থায় স্বীকৃতি না পাওয়া মানুষকে মৃত্যুর পর সম্মাননা দিয়ে মানানো যায় না।

ডলি চৌধুরী স্মরণ করেছেন, “প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি পরিশ্রম করেছেন। সব দিয়েছেন, নিজের স্বার্থ তুচ্ছ করে দিয়েছেন। এখন তিনি নেই। তাঁর জন্য সকলের প্রার্থনা চাই। কোনো পুরস্কার বা সম্মাননা গ্রহণ করব না।”

ইলিয়াস জাভেদ ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন। প্রথম সুযোগ পান কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘মালান’-এ নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে অভিনয় জীবনে প্রবেশ করেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’। বিশেষ করে ‘নিশান’ সিনেমার গান ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’ তাঁকে অমর জনপ্রিয়তায় পৌঁছে দেয়। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ।

চলচ্চিত্র ও নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে একাধিক প্রজন্মের শিল্পী তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ইলিয়াস জাভেদের অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলা চলচ্চিত্র ও নৃত্য জগতে স্মরণ করবে।

শিল্পী জীবন এবং ব্যক্তিত্বের এই গভীর প্রভাবের কারণে তাঁর বিদায় শুধু পরিবারের নয়, পুরো বিনোদন জগতের জন্য শোকের।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo