প্রথমবার বড় পর্দায় চঞ্চল–পরীমণি: ‘শাস্তি’ ছবিতে নতুন জুটির রসায়ন
Share
ঢাকাই চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে বড় পর্দা ভাগ করতে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও নন্দিত নায়িকা পরীমণি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই নামের চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন নির্মাতা লীসা গাজী। এই ছবিতেই দর্শক প্রথমবার দেখতে পাবেন চঞ্চল–পরীমণি জুটিকে, যা ইতোমধ্যে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছবিটির মহরত। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির শিল্পী ও কলাকুশলীরা। মহরত অনুষ্ঠানে পরীমণিকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা অকপটে প্রকাশ করেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, পরীমণির পর্দায় উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে প্রথম দেখাতেই। চঞ্চলের ভাষায়, “স্ক্রিনে পরীর যে অ্যাপিয়ারেন্স, সেটা দর্শককে সহজেই মুগ্ধ করে। এটা ওর বড় প্লাস পয়েন্ট। তবে শুধু সৌন্দর্য নয়, ওর অভিনয় ক্ষমতাও যথেষ্ট শক্তিশালী। নির্মাতাদের উচিত সেই দক্ষতাকে আরও গভীরভাবে কাজে লাগানো।”
চঞ্চল চৌধুরীর মতে, পরীমণিকে এখনও নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে। সঠিক চরিত্র ও গল্প পেলে তিনি আরও ভিন্নমাত্রার অভিনয় উপহার দিতে পারবেন বলেও মনে করেন এই অভিনেতা।
অন্যদিকে, মহরত অনুষ্ঠানে চঞ্চলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে কথা বলেন পরীমণি। তিনি জানান, পর্দার বাইরে তাদের মধ্যে বেশ মজার মুহূর্ত তৈরি হচ্ছে। পরীর ভাষায়, “ভাইয়া পাশে থাকলে কী বলবো, বুঝে পাই না। লিফটে আসার সময় হাসতে হাসতেই বলছিলাম—একটা যুগ পার হয়ে গেল, আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করছি, তখন আমরা বুড়ো হয়ে গেছি!”
পরীমণির এমন খুনসুটির জবাবে চঞ্চল চৌধুরী মজা করে নিজেকেই ‘বুড়ো’ বলে উল্লেখ করেন। তবে বয়স নিয়ে এই রসিকতার আড়ালেই ছিল পারস্পরিক সম্মান ও ভালো লাগার প্রকাশ। পরীমণি আরও বলেন, “টিনএজ সময় তো পেছনে পড়ে গেছে। মনের ভেতরে হয়তো এখনও সেই অনুভূতিটা আছে, কিন্তু বয়স তো থেমে থাকে না। হয়তো এই সময়েই আমাদের একসঙ্গে কাজ হওয়ার কথা ছিল।”
সবশেষে পরীমণি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তিনি চান ‘শাস্তি’ সিনেমাটি দর্শকের মনে দাগ কাটুক এবং তাদের এই প্রথম জুটি দর্শক সাদরে গ্রহণ করুক। নির্মাতা ও শিল্পীদের কথাবার্তায় স্পষ্ট—এই সিনেমা ঘিরে প্রত্যাশা এখন বেশ উঁচুতে।
