উত্তেজনায় অচল ইউএপি, অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস বন্ধ ঘোষণা
Share
ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সোমবার রাতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অনুকূল নয়। উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস স্থগিত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জেরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে আন্দোলনের রূপ নেয়।
একই সময় আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের পরও ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিক্ষার্থীদের একাংশ আরও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রশাসন চায় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকটের সমাধান হোক। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না। অন্যদিকে অভিভাবকরাও দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
ইউএপিতে ক্লাস বন্ধের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং পুনরায় ক্লাস শুরু হবে—এ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই অচলাবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
