প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার
Share
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করে। এতে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ধাপের মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও যাচাই-বাছাই শেষে এই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যার পর ফলাফল অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়।
ডিপিই সূত্র জানায়, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী। মোট আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মধ্য থেকে উত্তীর্ণদের নির্বাচন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রার্থীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা (SMS) পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd) থেকে নিজ নিজ ফলাফল দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিগগিরই আলাদা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিপিই।
উল্লেখ্য, শুরু থেকেই এই নিয়োগ পরীক্ষা নানা আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে এসেছে—এমন অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ বিক্ষোভও করেছিলেন। প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল নকলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।
কম সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।
