রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাঝেও টিকে আছে শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়

Share রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাঝেও টিকে আছে শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামে সরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাবে ২০০৬ সালে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শামীম আহমদ চৌধুরী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব, তার প্রয়াত ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরীর নামে।

প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয়টি প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখলেও ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর থেকে শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়া। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টি সরকারি বা এমপিওভুক্ত করার পরিবর্তে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, টিউবওয়েল ও দরজা-জানালা ভাঙার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত ২০ বছরে বিদ্যালয়টির কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ের বাথরুম থাকলেও পানির ব্যবস্থা নেই। ফলে চারজন নারী শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে গিয়ে নিরাপদ পানি পান ও বাথরুম ব্যবহার করতে হয়।

শ্রেণিকক্ষের ছাদ টিনের তৈরি হলেও কোনো ফ্যান নেই। গরমের সময় প্রায় অস্বস্তিকর অবস্থায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে বাধ্য হয়। এ কারণে গ্রীষ্মকালে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়, এমনকি কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. দুরুদ আলী বলেন, “গত ২০ বছর ধরে বিদ্যালয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বৈষম্যের শিকার। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে অনেক স্কুল সরকারি করা হলেও শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. মহসিন আলী এক সময় বিদ্যালয়টিকে সরকারি করার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর সংসদ সদস্য মো. আব্দুস শহিদ বিদ্যালয়টির নাম তালিকা থেকে বাদ দেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজীনা বেগম বলেন, “প্রতিষ্ঠাতা আমাদের জন্য সবকিছু দিয়েছিলেন। কিন্তু চারবার বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি হয়েছে। বর্তমানে বাথরুম থাকলেও পানির ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ফ্যান নেই, দরজা-জানালা ভাঙা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চুরির মধ্যেও আমরা বিদ্যালয়কে টিকিয়ে রেখেছি।”

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানান, “আগে বিদ্যালয়টি সরকারি করার সুযোগ থাকলেও তা হয়নি। বর্তমানে যদি কর্তৃপক্ষ মনে করে এলাকায় বিদ্যালয় প্রয়োজন এবং জাতীয়করণের মানদণ্ড পূরণ করে, তবে সরকারি করার সুযোগ রয়েছে।”

শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখছে। এটি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গণমানুষের জন্য শিক্ষার প্রতিশ্রুতি ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo