জাবির সাবেক শিক্ষার্থী মনিকৃষ্ণ রায় গুগলে চাকরি পেলেন, প্রযুক্তি জগতে গর্বের মুহূর্ত

Share জাবির সাবেক শিক্ষার্থী মনিকৃষ্ণ রায় গুগলে চাকরি পেলেন, প্রযুক্তি জগতে গর্বের মুহূর্ত

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে চাকরি পেয়ে দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে গর্বের জন্ম দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মনিকৃষ্ণ রায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ব্রুনোতে অবস্থিত গুগলের অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

মনিকৃষ্ণ রায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সদস্য। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিভাগের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রভাষক অনুপ মজুমদার।

গুগলে যোগদানের খবরটি মনিকৃষ্ণ রায় নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। তার পোস্ট প্রকাশের পরপরই সহপাঠী, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দন বার্তায় ভরে ওঠে টাইমলাইন। অনেকেই তার এই অর্জনকে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করছেন।

জানা গেছে, গুগলে যোগদানের আগে মনিকৃষ্ণ রায় দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি পরিবেশে দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক অনুপ মজুমদার বলেন, “আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সপার্ট ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মনিকৃষ্ণ রায়ের গুগলে যোগদান আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “মনিকৃষ্ণ ছাড়াও আমাদের বিভাগের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী মুকিত হাসান গুগল ও মাইক্রোসফট—উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই চাকরির অফার পেয়েছেন, যদিও তিনি এখনো যোগ দেননি। প্রতি বছরই আমাদের বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সক্ষমতারই প্রতিফলন।”

বিভাগীয় শিক্ষকরা মনে করছেন, মনিকৃষ্ণ রায়ের এই সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। একজন শিক্ষার্থী যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বীকৃতি পান, তখন তা অন্যদেরও স্বপ্ন দেখতে ও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে।

শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মতে, মনিকৃষ্ণ রায় বরাবরই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে নিয়মিত চর্চা করতেন, যা তার পেশাগত জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

জাবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন। মনিকৃষ্ণ রায়ের মতো সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo