বাংলাদেশ–চীন অংশীদারিত্বে সাংস্কৃতিক সংযোগের গুরুত্ব ও নতুন দিক
Share
শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদার না হলে বাংলাদেশ–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব পূর্ণতা পায় না—এমন মত উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে। বক্তারা বলেন, সময়োপযোগী সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ধারাবাহিকতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও টেকসই করা সম্ভব।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং চীন–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাকে আরও দৃঢ় করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।
ফারুকী বলেন, “কেরালা, সৌদি আরব কিংবা স্কটল্যান্ডের মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে গর্ব করে। অথচ আমাদের দেশে অনেকেই নিজেদের পূর্বপুরুষদের পোশাক পরতে লজ্জাবোধ করেন।” তিনি বলেন, এটি একটি হীনম্মন্যতা, যা ভুল সাংস্কৃতিক চর্চা ও দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারার দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “বিদেশে বাংলাদেশের অনেক সাংস্কৃতিক আয়োজন একঘেয়ে ও পুরোনো ধাঁচের হওয়ায় দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা যায় না।” কোন অনুষ্ঠানে কোন গান, পোশাক বা পরিবেশনা উপযুক্ত—এই ‘কিউরেশন’ বা পরিকল্পনার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আশাব্যঞ্জক দিকও তুলে ধরেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তিনি জানান, চীনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি নতুন আঙ্গিকে দেশীয় সংস্কৃতি উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে হলে সংস্কৃতিকে হতে হবে কৌশলগত কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিল্পকলা ও তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও গভীর করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, সেমিনারে উঠে আসে—অর্থনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও আধুনিক উপস্থাপনাই বাংলাদেশ–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে টেকসই ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।
