সহকারী শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর! এমএড/মাস্টার্স ডিগ্রিতে মিলবে বাড়তি বেতন—কার্যকর হবে ২০১৫ সাল থেকে
Share
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সুখবর এলো। পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতিস্বরূপ অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা প্রদান সংক্রান্ত একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর্থিক সুবিধা ও পেশাগত মর্যাদা আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (মাউশি) এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকারা তাঁদের অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রিম বর্ধিত বেতন পাওয়ার অধিকারী হবেন। এ আদেশ কার্যকর ধরা হবে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে, অর্থাৎ এটি পূর্ববর্তী সময়ের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির এমএড (মাস্টার অব এডুকেশন) অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা একটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের জন্য দুটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামোয় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরের সম্মতির আলোকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চাকরি (বেতন ও ভাতা) আদেশ, ২০১৫–এর ১২ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তৎকালীন শিক্ষা অধিদপ্তরের মেমোরেন্ডাম নম্বর ৮৩২-এর তফসিলে ‘সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা’ পদনাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, এই প্রজ্ঞাপন শিক্ষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা তাঁদের পদমর্যাদা ও বেতন বৈষম্য নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। নতুন এ সিদ্ধান্ত তাঁদের মধ্যে উৎসাহ বাড়াবে এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার গুণগত মানও বাড়বে। সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শিগগিরই এর বাস্তব সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
