রমজানে স্বস্তি দিচ্ছে সরকার: ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস, ৮ টাকায় ডিম ও ৮০ টাকায় দুধ

Share রমজানে স্বস্তি দিচ্ছে সরকার: ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস, ৮ টাকায় ডিম ও ৮০ টাকায় দুধ

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি দিতে সরকার সুলভ মূল্যে গরুর মাংস, ডিম, দুধ ও ব্রয়লার মুরগি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, প্রতিটি ডিম ৮ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ ৮০ টাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। লক্ষ্য—রমজানে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা।

সরকারি উদ্যোগে সুলভ দামে প্রাণিজ আমিষ পণ্য বিক্রি রমজানে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

কোথায় ও কখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো

গত রোববার রাজধানীর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সভায় জানানো হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

নির্ধারিত মূল্য তালিকা

এই কর্মসূচির আওতায় পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ—

  • 🥩 গরুর মাংস (ড্রেসড): প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা

  • 🐔 ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা

  • 🥛 পাস্তুরিত দুধ: প্রতি লিটার ৮০ টাকা

  • 🥚 ডিম: প্রতিটি ৮ টাকা

বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে এসব পণ্য পাওয়া যাবে সরকারি বিক্রয়কেন্দ্রে।

ঢাকার বাইরেও বিক্রি হবে

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরের বাইরেও বিভাগীয় ও জেলা শহরে স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সুলভ মূল্যে এসব পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা নেবেন।

কোথায় বিক্রি হবে পণ্য

প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো—
সচিবালয়ের পাশে আবদুল গনি রোড, খামারবাড়ি (ফার্মগেট), মিরপুর ৬০ ফুট, আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ, কালশী, মানিকনগর, শাহজাদপুর, কড়াইল বস্তি, কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও, নাখালপাড়া, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর, কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও ও বঙ্গবাজার।

এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী স্পট নির্ধারণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo