‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে সরব হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ
Share
ভাষা ও রাজনৈতিক স্লোগান ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যু। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-এর এক বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা।
শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা ও বাঙালিয়ানা ধারণ করতে হলে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।” ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে তার এই মন্তব্য দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সংক্ষিপ্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” সংক্ষিপ্ত এই পোস্ট ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও শেয়ার।
এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-ও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জ্বালানি মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না মাননীয় মন্ত্রী?” তার এই মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সমর্থক-সমালোচকের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাস—বিশেষত ২১ ফেব্রুয়ারি—বাংলা ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই প্রেক্ষাপটে ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে যেকোনো মন্তব্যই জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ফলে মন্ত্রীর বক্তব্য এবং তার জবাবে রাজনৈতিক নেতাদের স্ট্যাটাস নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, স্লোগানকে ঘিরে এই মতভেদ মূলত রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরছে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মত রয়েছে—বর্তমান আলোচনা সেই বিতর্কেরই ধারাবাহিকতা।
এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কোনো দলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নেতাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃত আলোচনার দিকে যেতে পারে।
ভাষা, ইতিহাস ও রাজনৈতিক বক্তব্য—এই তিনের সংযোগে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক এই বিতর্ক এখন সামাজিক মাধ্যম ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিসরেও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
