নির্বাচন ও গণভোটে টানা ৪ দিন বন্ধ দেশের সব ব্যাংক
Share
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সারা দেশে সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে নির্বাহী আদেশে এই ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে।
🔹 কেন বন্ধ থাকবে ব্যাংক?
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এই দুই দিনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও লেনদেন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
🔹 ব্যাংকগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (এমডি ও সিইও) কাছে পাঠিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
🔹 টানা চার দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক বন্ধ থাকার পরপরই ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। এর ফলে নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) থেকে।
🔹 গ্রাহকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
ব্যাংক বন্ধ থাকাকালীন সময়ে শাখাভিত্তিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন সেবা সীমিত আকারে চালু থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বড় অঙ্কের নগদ উত্তোলন, চেক নিষ্পত্তি কিংবা অফিসিয়াল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগেই প্রয়োজনীয় লেনদেন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এই টানা ছুটি ব্যাংকিং কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে গ্রাহকদের বড় কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ব্যাংক-সংক্রান্ত জরুরি কাজ থাকলে ১১ ফেব্রুয়ারির আগেই তা সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
