ঢাকা-৮ কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ, সেনা হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
Share
ঢাকা-৮ আসনের রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পরিদর্শনের সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতেই হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। কিছু লোক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর স্লোগান দিতে থাকে এবং প্রার্থীর ওপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় ভোটকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রার্থী এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক সেনা সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, “নাসীরুদ্দীন অবরুদ্ধ ছিলেন না, তবে সমর্থকের ভিড়ের কারণে কেন্দ্রে বের হতে পারছিলেন না।”
ঘটনার পর দুপুর ১২:৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, “রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করা হচ্ছে। প্রিজাইডিং অফিসার সরাসরি বিএনপির পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রে প্রবেশের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তিনি বলেন, “ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সার্বিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে সেনাবাহিনী এবং প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভোটকেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তার সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। তবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিরোধে তৎপর থাকা জরুরি।
এ ঘটনা দেশের নাগরিক ও ভোটারদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। নির্বাচনের মাঠে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে, জনগণের ভোটাধিকারের যথাযথ প্রয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।
