রাজধানীসহ দেশে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, কলকাতাতেও আতঙ্ক

Share রাজধানীসহ দেশে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, কলকাতাতেও আতঙ্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। অনেকেই ঘর ও অফিস থেকে দ্রুত বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার নিচে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) একই মাত্রা—৫ দশমিক ৩—নিশ্চিত করেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, তাদের হিসাবে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবীর এটিকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার বলেন, পরপর দুই দফায় কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরাই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গেও আতঙ্ক

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা-তেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে বহুতল ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ি ও অফিস থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। কিছু পুরনো ভবনে হেলে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া ও হুগলিসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়। টাকি থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল খুলনার দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার বলে জানা গেছে।

তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভূমিকম্পে বাংলাদেশে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। তখন রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার কম্পনও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং জরুরি প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতাই হতে পারে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর প্রধান উপায়।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo